যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওমডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী চার বছরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপন থেকে আয় বার্ষিক ১২ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে। ফলে ২০৩০ সাল নাগাদ খাতটির মোট আয় ৬৪ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছবে। সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাডভার্টাইজিং মার্কেট ল্যান্ডস্কেপ ২০২৬ শীর্ষক প্রতিবেদনে সম্প্রতি এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী চার বছরে মোট অনলাইন বিজ্ঞাপনের বাজারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিস্যা আরো ১০ শতাংশ বাড়বে। বর্তমানে অনলাইন বিজ্ঞাপনের ৩৩ শতাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দখলে রয়েছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ৪৪ শতাংশে উন্নীত হবে। রিটেইল মিডিয়ার পাশাপাশি এটি এখন সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল বিজ্ঞাপন খাত হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীদের সক্রিয়তা বৃদ্ধি ও বিজ্ঞাপনের জন্য সহজ প্লাটফর্ম এ ধারাবাহিক অগ্রগতির মূল কারণ। বর্তমানে বড় আকারের চেয়ে ছোট ভিডিও ফরম্যাট বা রিলস, টিকটক, শর্টস এবং স্টোরিজের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন আয় সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। ২০২৫ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের
মোট বিজ্ঞাপন আয়ের ৬০ শতাংশই এসেছে ভিডিও থেকে। এসব প্লাটফর্ম শুধু নিজেদের ভিডিওর বিজ্ঞাপন আয়ই বাড়াচ্ছে না, বরং অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইটের জন্য নির্ধারিত বিজ্ঞাপনের বাজেটও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিচ্ছে।
বিশ্বের মোট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক বিজ্ঞাপন আয়ের ৯০ শতাংশই যাচ্ছে ছয়টি অ্যাপের পকেটে। এগুলো হলো ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ডুইন, ইউটিউব, টিকটক ও উইচ্যাট। এর মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের বাজারে এক ধরনের বৈষম্যও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বাজারটির শীর্ষে আছে মেটা। ২০২৫ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মোট বিজ্ঞাপন আয়ের ৫৪ শতাংশই ছিল মেটার দখলে। চীনের বাজার বাদ দিলে এ আয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৭০ শতাংশ।
ওমডিয়ার প্রধান বিশ্লেষক কিয়া লিং তিওহ বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক লক্ষ্য নির্ধারণী ব্যবস্থা ও সুপারিশ বা রিকমেন্ডেশন অ্যালগরিদম বড় কোম্পানিগুলোর শক্তি অনেক বাড়িয়ে দিচ্ছে। যেসব প্লাটফর্মের কাছে ব্যবহারকারীদের প্রচুর তথ্য এবং শক্তিশালী কম্পিউটার অবকাঠামো রয়েছে, তারা এ প্রযুক্তির সুবিধা সবচেয়ে বেশি পাচ্ছে। ফলে ছোট প্লাটফর্মগুলো প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়ছে এবং বিজ্ঞাপনের সিংহভাগ অর্থ বড় কোম্পানির কাছে চলে যাচ্ছে।’
এ বাজারে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে কোম্পানিগুলোকে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতার দিকেও নজর দিতে হবে বলে মনে করেন কিয়া লিং তিওহ। কারণ স্ক্রিনে অতিরিক্ত বিজ্ঞাপনের উপস্থিতি ব্যবহারকারীদের বিরক্ত করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে যা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের উন্নয়ন করার পাশাপাশি ব্যবহারকারীর স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখাই হবে আগামী দিনের মূল চ্যালেঞ্জ।